দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ডাকনীর-পাঠ বাজারে প্রায় চার দশক ধরে গরুর মাংস বিক্রি না করার প্রচলিত প্রথা ভাঙাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ৪০ বছর আগে ব্যক্তি মালিকানায় বাজারটির যাত্রা শুরু হয়। শুরুর দিকে এটি ছোট পরিসরের বাজার হলেও পরবর্তীতে মুসলিম সম্প্রদায়ের উদ্যোগে এখানে দোকানপাট গড়ে ওঠে। তবে বাজারে গরুর মাংস বিক্রি না করার বিষয়ে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা ছিল। বাজারের মাঝখানে একটি কালী মন্দির থাকায় ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর ছিল বলে স্থানীয়রা জানান।
সম্প্রতি ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাজারে গরু জবাই করা হলে দীর্ঘদিনের এই প্রথা ভঙ্গ হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয় এবং স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত ৭ এপ্রিল থানায় দুই সম্প্রদায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পূর্বের মতোই বাজারে গরু জবাই না করার সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা হিন্দু-মুসলিম সবাই মিলেমিশে এই বাজারে বসবাস করি। এখানে কখনো কোনো সমস্যা হয়নি। সম্প্রতি গরু জবাইকে কেন্দ্র করে কিছু বিশৃঙ্খলা হয়েছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এখানে এই নিয়ম চলে আসছে। আমরা সবাই এই নিয়ম মেনে চলি।’
বাজারে অবস্থিত কালী মন্দির কমিটির সদস্য কাঞ্চন কুমার বর্মন বলেন, ‘শুরুর দিকে অনুরোধের ভিত্তিতেই এখানে গরুর মাংস বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছিল।’
একই কমিটির আরেক সদস্য নিতাই রায় বলেন, ‘আমরা শুধু অনুরোধ করেছি, এখন কেউ চাইলে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারে, তবে ধর্মীয় অনুভূতি বিবেচনায় রাখা উচিত।’
এদিকে গরু জবাইয়ের পক্ষের এক ব্যক্তি আজিজুল হক বলেন, সময়ের পরিবর্তনে এখন বাজারে গরুর মাংসের চাহিদা রয়েছে এবং আগের মতো বাধ্যবাধকতা থাকা উচিত নয়।
ইউপি চেয়ারম্যান শফিউল আলম শফি বলেন, দীর্ঘদিনের সমঝোতা ভেঙে গিয়ে সম্প্রীতি নষ্টের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা কাম্য নয়।
নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ হিল জামান বলেন, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমঝোতার ভিত্তিতেই দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হয়ে আসছে এবং এখনো পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
এমএস/